Thursday, June 27, 2019

নিঃসন্তান দম্পতিদের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা

হোমিওপ্যাথ কনসালটেন্ট 
ডাঃ এম এইচ মোহন 



বিবাহিত দম্পতিদের সন্তান না হওয়ার বিড়ম্বনা সব সমাজেই বিদ্যমান। সাধারণত ২০-৩৫ বছর বয়স্ক দম্পতিরা একত্র স্বামী-স্ত্রী হিসেবে জীবনযাপন করেন এবং কোনো ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণের সাহায্য না নিয়ে যদি এক বছরের মধ্যে সন্তান উৎপাদনে সক্ষম না হন তাহলে তাদের বন্ধ্যত্ব হয়েছে বলা যাবে। যদি স্ত্রীর বয়স ৩৫ কিংবা তার বেশি হয় তাহলে সময়সীমা (দাম্পত্য জীবন) হবে ছয় মাস। এক সমীক্ষায় জানা যায়, ২০-৪০ বছর বয়সের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ২০ শতাংশ সন্তান উৎপাদনে অক্ষম। সন্তানহীন দম্পতিদের মধ্যে প্রায় ৪৮ শতাংশ ক্ষেত্রে পুরুষের দোষেই এটি হয়ে থাকে। অথচ সন্তানহীনতার দায় অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদের বহন করতে হয়। অনেক মেয়েকে এ জন্য অনেক নির্যাতন সহ্য করতে হয় পরিবার ও সমাজের কাছ থেকে। সন্তানহীনতার অভিযোগে স্ত্রীকে ত্যাগ করে অনেক স্বামী আবারো বিয়ে করে থাকেন সন্তানের আশায়। কিন্তু বাস্তবে সন্তান না হওয়ার দায় কেবল স্ত্রীর নয়, স্বামীরও। তাই সন্তানহীন দম্পতির পরীক্ষার সময় স্বামী ও স্ত্রী উভয়কেই ভালোভাবে পরীক্ষা করা উচিত।


এখানে সন্তানহীনতার বিষয়টিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখা হলেও ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে এর প্রকৃত কারণ বোঝার দরকার আছে। কুরআনের সূরা আশ-শূরা আয়াত ৪৯-৫০ বলা হয়েছে, ‘নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের রাজত্ব আল্লাহ তায়ালারই। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান ও যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন। অথবা তাদের দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ ও ক্ষমতাশীল। তাই যারা মুসলিম তাদেরকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের কারণ উপাত্ত জানার পরেও কুরআনের আলোকে বিষয়টিকে বুঝতে হবে। এ জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকেও দেখা যাচ্ছে স্বামী-স্ত্রী সর্ব দিক থেকে স্বাভাবিক হলেও ও নিয়ন্ত্রণহীন নিয়মিত সহবাস করলেও যে তাদের সন্তান হবেই এ কথা বলা যায় না। সুস্থ, স্বাভাবিক ও ইচ্ছুক দম্পতিদের সন্তান কবে হবে তা সব সময় বলা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে সব সময়েই কিছু অনিশ্চয়তা থেকে যায়।

তাই কুরআনের ওই সিদ্ধান্তকেই সবার স্মরণে রাখা উচিত। আমরা জেনেছি যে, বছরব্যাপী স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবনে সন্তান না এলে তাকে বন্ধ্যত্ব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যেসব ক্ষেত্রে মহিলার গর্ভসঞ্চার হচ্ছে কিন্তু জীবিত সন্তান প্রসব হচ্ছে না। এটি এক ধরনের বন্ধ্যত্ব। এসব ক্ষেত্রে সাধারণত স্বামীর ত্রুটি থাকে না। যেসব ক্ষেত্রে গর্ভধারণ একবারো হয়নি, সেখানে স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই ত্রুটি থাকতে পারে। আবার অনেক সময় প্রথম সন্তানের পর দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দম্পতির ইচ্ছা এবং চেষ্টা সত্ত্বেও বিলম্বিত হয়। এ-ও এক ধরনের বন্ধ্যত্ব। একে সাময়িক বন্ধ্যত্ব বলা হয়।
পুরুষের যে সব অসুখের কারণে স্ত্রীর সন্তান লাভ সম্ভব হয় না তার মধ্যে রয়েছে, অন্তস্রাবী গ্রন্থির অসুখ, যেমন হাইপোথ্যালামাসের (Hypothalamus) রোগ কলম্যানস সিনড্রম (kallman's Syndrome)। এটি একটি বংশগত রোগ। পিটুইটারি গ্রন্থির অসুখ, যেমনÑ টিউমার, সিস্ট প্রভৃতি। থাইরয়েড হরমোনের অভাব বা মিক্সিডিমা। এ ছাড়া রয়েছে জিনঘটিত কারণ (Genetic Cause), যেমন প্রকৃত যৌনগ্রন্থির অভাব, জন্মগতভাবে অণ্ডকোষ না হওয়া ইত্যাদি। আবার কাইন ফেলটার সিনড্রোম (kline felter Syndrome) নামে এক প্রকার ক্রোমজমের অসুখের ফলেও শুক্রকীটের অভাব হতে পারে।
অন্তস্রাবী গ্রন্থি ছাড়াও আরো অনেক কারণে পুরুষ বন্ধ্যত্ব দেখা দিতে পারে। এসব কারণের মধ্যে রয়েছে পুষ্টির অভাব, বিশেষত ভিটামিন বি ও ই। অতিরিক্ত ধূমপান ও অতিরিক্ত মদপান। অতিরিক্ত গরমে যারা কাজ করেন যেমনÑ বাস, ট্রাকচালক, খনি শ্রমিক। তাদের শুক্রকীটের জন্ম ও বৃদ্ধির জন্য একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার প্রয়োজন। ভেরিকোসিল (Vericoeele), জীবাণু সংক্রমণ, মাম্পসের কারণে অণ্ডকোষের প্রদাহ (Mumps Orchitis), গনোরিয়া, যক্ষ্মা, কিডনি, মূত্রনালী বা মূত্রাশয়ের সংক্রমণ, ডায়াবেটিস মেলাইটাস, শুক্রকীটের গতিপথে কোনো প্রকার বাধা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অভাব (Immunological Cause), প্রভৃতি কারণেও পুরুষের বন্ধ্যত্ব হতে পারে। ক্যান্সারের ওষুধ ব্যবহার, মানসিক অবসাদের ওষুধ, ম্যালেরিয়ার ওষুধ, কিছু উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ, বিকিরণ বা রে, ইত্যাদিও বন্ধ্যত্বের কারণ হতে পারে। বন্ধ্যত্বের এসব জানা কারণ ছাড়াও ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে কোনো কারণ পাওয়া যায় না। এ জন্য নিঃসন্তান দম্পতিদের চিকিৎসায় রোগীর ইতিহাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। পুরুষের ইতিহাসে তার শৈশব ও বাল্যকালের অসুখ, পুরনো ও দীর্ঘস্থায়ী অসুখ, পারিবারিক অসুখ, পেশা, ধূমপান, মদপানের ইতিহাস, ওষুধের নেশা, শল্য চিকিৎসা ও আঘাতের বিবরণ এবং বিবাহিত জীবনের ইতিহাস। পুরুষের বীর্য পরীক্ষা ছাড়াও প্রয়োজন হতে পারে টেসটিসের বাইয়পসি, বীর্য কালচার, বিভিন্ন হরমোনের পরিমাণ, ক্রোমজম পরীক্ষা প্রভৃতি।

মহিলাদের যেসব কারণে বন্ধ্যত্ব দেখা দিতে পারে যেমনÑ যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী অসুখ, পুষ্টির অভাব বা অতিরিক্ত মেদবহুল, আতঙ্ক বা ভয়, জরায়ু মুখের অসুখ, জরায়ুর অসুখ, জন্মগতভাবে জরায়ু না থাকা বা ছোট জরায়ু, এক বা দুই শৃঙ্গযুক্ত জরায়ু, দুই ভাগে বিভক্ত জরায়ু, জরায়ুতে জীবাণুর সংক্রমণ (টিবি, গনোরিয়া), জরায়ুতে টিউমার প্রভৃতি।
মহিলাদের বন্ধ্যত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ অ্যান্ডোমেট্রিওসিস (Endometriosis), যা সাধারণত ৩০-৩৫ বছর বয়সী মহিলাদের মধ্যেই বেশি দেখা দেয়। বিলম্বে বিবাহ ও সন্তানসম্ভবা বিলম্বিত করা এর একটি প্রধান কারণ। এর প্রধান কারণ ঋতুস্রাবের সময় ব্যথা, যৌন মিলনে ব্যথা, তলপেটে ব্যথা। ডিম্বনালির অসুখের কারণেও বন্ধ্যত্ব হতে পারে। ডিম্বনালির প্রধান কাজ ডিম্বাণু ও শুক্রকীটের মিলনের স্থান ঠিক করা এবং ভ্রƒণের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় হরমোনের সৃষ্টি করা। এই ডিম্বনালি যখন জীবাণুর দ্বারা সংক্রমিত হয় তখন এর শ্লেষ্মাঝিল্লির ক্ষতি হয়। আমাদের দেশে টিবি, গনোরিয়া, স্ট্যাফাইলোকক্কাস, স্ট্রেপ্টোকক্কাস, বিকোলাই, প্রভৃতি জীবাণুর সংক্রমণ ডিম্বনালিতে বেশি হয়ে থাকে। শল্য চিকিৎসার কারণেও ডিম্বনালি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে যেমন,ডি অ্যান্ড সি, অ্যান্ডোমেট্রিয়াল বাইয়পসি, বা অ্যাপেন্ডিক্সের অপারেশনের ফলেও ডিম্বনালির অসুখ হতে পারে।
হরমোনের অভাবেও বন্ধ্যত্ব দেখা দেয়। মহিলাদের ঋতুচক্র এবং ডিম্বাণু নির্গত হওয়া নানা অন্তস্রাবী গ্রন্থির হরমোনের ওপর নির্ভরশীল। এর যেকোনো হরমোনের অভাবে তাই বন্ধ্যত্ব দেখা দিতে পারে। যেমন, হাইপোথেলামসের আঘাত, টিউমার, পিটুইটারি গ্রন্থির টিউমার, অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির টিউমার, থাইরয়েড গ্রন্থির অসুখ, ডিম্বাশয়ের অসুখ-টিউমার, সিস্ট ইত্যাদি কারণে হরমোনের গোলমাল দেখা দিয়ে থাকে।

নারীর শরীর জাত অ্যান্টিবডি অনেক সময় পুরুষের শুক্রকীট ধ্বংস করে দেয় বা শুক্রকীটের জরায়ুর মুখে প্রবেশে বাধার সৃষ্টি করে। এই অ্যান্টিবডি পুরুষের রক্ত বা বীর্যে এবং মেয়েদের রক্ত বা জরায়ুমুখের শ্লেষ্মাঝিল্লিতে পাওয়া যায়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে, মানসিক চাপ। অত্যধিক মানসিক চাপ বন্ধ্যত্বের কারণ হতে পারে বলে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এখন একমত। এমনকি সন্তান লাভের অদম্য বাসনাও সন্তান ধারনে বাধার সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য সন্তান লাভে ইচ্ছুক দম্পতিদের সম্পূর্ণ স্বাভাবিক মানসিক ও শারীরিক অবস্থাতেই সন্তান লাভের চেষ্টা করা উচিত। তাই কোনো রূপ ভয়, আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তা না করে মহান আল্লাহ তায়ালার রহমত কামনা করে সন্তান লাভের চেষ্টা করলে তারা সফল হতে পারবেন।
হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ঃ
একজন ভাল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরমর্শ নিন। 

হোমিওপ্যাথ কনসালেটেন্ট
ডাঃ এম এইচ মোহন 
মোবাইলঃ ০১৭২০-৩৮২৬৪৬




Sunday, June 23, 2019

হোমিওপ্যাথ কনসালটেন্ট, ডাঃ এম এইচ মোহন

লেকচারার,চাঁদপুর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ।

Thursday, June 20, 2019

Homeopathic medicines for curing back pain.

LECTURER, DR. M H MOHAN
Arnica:
Injured back often leads to severe back pain, and it can be well treated by this homeopathic medicine. Both recent and past back-injuries can be treated using this medicine. This medicine is absolutely safe, and thus you will not face any side-effects at all.
Unwanted back stiffness and soreness within back muscles can also be minimized to a great extent with the consistent application of this medicine. Back motions can be made much more flexible by curtailing restlessness.
Rus Tox:
If you want to stop chronic condition of your back pain, then nothing can be the best option other than this medicine. Most of the homeopathic practitioners are now strongly recommending this medicine for severe cases. Only limited dosage of this medicine taken in a consistent manner can offer you more relief from your back pain, and you can get greater relaxation.
Mag Phos:
This medicine is very much useful for alleviating all kinds of back pains, and this medicine can be accompanied by external heat. Cramping muscle pains are simply unbearable and thus cannot be gotten rid of at times. In such a condition, there is no other safest alternative other than this medicine.
Bryonia:
There are some prominent symptoms of back pain, and they can be easily and efficiently alleviated by this medicine.
If you have become pretty tired of applying homemade therapies, then you can try out this solution. This medicine can reduce your pain and inflammation within a few hours, and you can get back to your daily activities with great energy. Apart from taking this medicine, you have to take enough rest so that your back can get relaxed. Your back motion can be smoothened and made flexible by taking the concerned medicine.
Kali carb:
This medicine is the best back-pain solution for females. Those females who have severe back pain immediately after delivery can get greater relief from this medicine. In this case, back muscles often develop cramping pains and these pains are very much irritating, and thus you might feel disturbed. This is the reason doctors often recommend taking this medicine to fix the problem.
DR. M H MOHAN

Friday, June 14, 2019

শিশুদের স্কুল ভীতি!একটি উদ্বেগজনিত মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা । ডাঃ এম এইচ মোহন

স্কুলে যাওয়ার সময় এলেই অনেক শিশুর মধ্যে তীব্র আপত্তি, অনীহা ও উদ্বেগ লক্ষ করা যায়। কিন্তু যখন স্কুলে না যাবার দৃশ্যমান কোনো কারণ যেমন- শারীরিক অসুস্থতা ও পারিবারিক দুর্ঘটনা প্রভৃতি খুঁজে পাওয়া যায় না তখন বিষয়টি অভিভাবক ও স্কুলশিক্ষকের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটি শিশুদের একটি উদ্বেগজনিত মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা যা স্কুলভীতি নামে বেশি পরিচিত।

শিশু মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য আগত শতকরা ৫ ভাগ শিশুর এ ধরনের সমস্যা দেখা যায়। শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণ কিংবা অন্য কোনো পারিবারিক কারণে (প্রিয়জনের মৃত্যু) দীর্ঘদিন স্কুলে যাওয়া বন্ধ থাকার পর স্কুলে যাওয়ার ক্ষেত্রে এ সমস্যা শুরু হতে পারে। শুরুতে স্কুলে যেতে তীব্র আপত্তি, প্রতিবাদ, কান্নাকাটি, হাত-পা ছুড়ে চিৎকার ও আতঙ্কগ্রস্ত হওয়া প্রভৃতি লক্ষণ দেখা যায়। অনেক সময় শুধুমাত্র শারীরিক লক্ষণসমূহ যেমন, পেটে, মাথায় ও শরীরের অন্য স্থানে ব্যথা, অস্থিরতা, বমিভাব ও ক্লান্তি ও অবসাদবোধ নিয়ে স্কুলভীতি প্রকাশ পেতে পারে।
অভিভাবকগণ অনেক সময় এসব কারণে শিশুকে স্কুলে যেতে দেন না বা স্কুলে যাওয়ার মাঝ পথ থেকে শিশুকে ফিরিয়ে আনেন যা সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে।
লিঙ্গ ও বয়সভেদে যেকোনো শিশুর স্কুলভীতি বা স্কুলে যেতে সমস্যা হতে পারে। সাধারণত ৭-১১ বছর বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে এ সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করে। যে বয়সে একটি শিশুর স্বাধীনভাবে একাকী চলাফেরা, খেলাধুলা ও বন্ধুদের সাথে মেলামশার ক্ষমতা থাকার কথা তা যদি না থাকে তখন এ সমস্যা দেখা যায় যা ‘সেপারেশন অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার’ নামক শিশু মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা নামে পরিচিত। এ ছাড়া, স্কুলে যাওয়ার পথে ভীতিকর পরিবেশ, অতিরিক্তি পড়াশুনার চাপ, পরীক্ষা ভীতি, স্কুলে শিক্ষক বা সহপাঠী দ্বারা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল প্রভৃতি কারণেও শিশুদের স্কুলে যেতে অনীহা তৈরি হয়। স্কুল পরিবর্তন ও নতুন পরিবেশ, পরিবারে শৃঙ্খলার অভাব, মা-বাবার প্রতি শিশুর অতি নির্ভরশীলতা, শিশুর সাথে পরিবারের নেতিবাচক  সম্পর্ক, শিশু নির্যাতন ও মা-বাবার মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা শিশুর স্কুলভীতির সাথে নিবিঢ়ভাবে সম্পর্কযুক্ত।
যে সকল শিশুর স্কুলভীতি রয়েছে তাদের দুই-তৃতীয়াংশের উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, অতি চঞ্চলতা, সামাজিক ভীতি ও মানিয়ে চলার সমস্যাসহ বিভিন্ন ধরনের শিশু মানসিক সমস্যা থাকে। এ জন্য স্কুলভীতির কারণ অনুসন্ধান ও প্রতিকারের জন্য মানসিকরোগ বিশেষজ্ঞ, শিশু-বিশেষজ্ঞ, মনোবিদসহ অন্যান্য সহায়ক শিশু-মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তা অপরিহার্য। গবেষণায় দেখা গেছে, স্কুলভীতির সমস্যার সফল সমাধানে ‘স্কুলে ফিরে যাওয়ার নীতি’ গ্রহণ দুই-তৃতীয়াংশ শিশুর ক্ষেত্রে কার্যকর। এ ক্ষেত্রে পরিবার ও স্কুল-শিক্ষকের ইতিবাচক ও সহযোগী ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ নীতিতে আগে থেকে সুবিধামতো দিন ঠিক করে শিশুকে কিছু পূর্বপ্রস্তুতির পর স্কুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে স্কুল চলাকালীন বা অন্য সময় স্কুলের আশপাশে যাওয়া ও পরে স্কুলের ভেতরে প্রবেশ ইত্যাদি কৌশল বের করে।
পড়াশুনায় পিছিয়ে পড়লে তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তবে কোনোভাবেই স্কুল বাদ দিয়ে বাসায় পড়াশুনা উৎসাহিত করা যাবে না।
অন্যান্য মানসিক ও শারীরিক সমস্যার জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। স্কুলভীতির কারণে শিশুর পড়াশুনার দক্ষতা কমে যাওয়া, প্রাপ্তবয়সে বেকারত্ব, মনোদৈহিক রোগ, আতঙ্ক, সামাজিক ভীতিসহ বিভিন্ন মনোসামাজিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ জন্য স্কুলভীতির সমস্যাকে অবহেলা না করে সময়মতো শিশু-মানসিক স্বান্থ্য পেশাজীবীর পরামর্শ ও সহায়তা নিতে হবে।