হোমিওপ্যাথ কনসালটেন্ট
ডাঃ এম এইচ মোহন
লেকচারার,চাঁদপুর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
=========================================
জন্ডিস নামটার সাথে আমরা সবাই পরিচিত। তবে এটা হয়ত জানিনা, জন্ডিস কোন রোগ নয়। এটি অন্য কোনো রোগের উপসর্গ মাত্র। এতে ত্বক,
স্ক্লেরা বা
চোখের সাদা অংশ ও অন্যন্য মিউকাস ঝিল্লি হলুদ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে প্রসাবের
রঙও হলুদ হয়ে যায়। শরীরে বিলিরুবিনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া এর প্রধান কারণ।আর বিলিরুবিন বৃদ্ধির পেছনে আছে অন্য কারন। জন্ডিস রোগীর তাৎক্ষণিক ও সঠিক চিকিৎসা প্রয়োজন। সঠিক সময়ে এর চিকিৎসা শুরু না করলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
রক্তে বিলিরুবিন নামক হলুদ রঞ্জক পদার্থের স্বভাবিক মাত্রা < ১.০-১.৫ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার। আর শরীরে বিলিরুবিনের মাত্রা দ্বিগুণ হয়ে গেলে তা বাইরে থেকে বোঝা যায়। কিছুক্ষেত্রে প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ হয়ে যেতে পারে। শরীরের চামড়া ফ্যাকাশে দেখায় বলে আগের দিনে একে পাণ্ডুরোগ বলা হত।
♦ জন্ডিস কী?
শরীরের চামড়া, মিউকাস মেমেব্রেণ এবং চোখ হলুদ হয়ে যাওয়াকে সাধারণত জন্ডিস বলা হয়। পুরনো লোহিত রক্তকণিকা আমাদের শরীরে সবসময় বিলিরুবিন উৎপন্ন করে, যা প্রধানত পায়খানার মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। যদি কোন কারণে শরীর থেকে এই বিলিরুবিন বের হতে না পারে তাহলে অধিক বিলিরুবিন শরীরে জমে জন্য জন্ডিস হয়।
এছাড়া জন্ডিসের কারণে শরীরে আরও অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
♦ জন্ডিসের কারণ:
লিভারের রোগ জন্ডিসের প্রধান কারণ। আমরা যা কিছুই খাই না কেন তা লিভারে প্রক্রিয়াজাত হয়। লিভার নানা কারণে রোগাক্রান্ত হতে পারে। হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি এবং ই ভাইরাসগুলো লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি হয় যাকে বলা হয় ভাইরাল হেপাটাইটিস। আমাদের দেশসহ সারা বিশ্বেই জন্ডিসের প্রধান কারণ এই হেপাটাইটিস ভাইরাসগুলো। তবে উন্নত দেশগুলোতে অতিরিক্ত মধ্যপান জন্ডিসের একটি অন্যতম কারণ। এ ছাড়া অটোইমিউন লিভার ডিজিজ এবং বংশগত কারণসহ আরও কিছু অপেক্ষাকৃত বিরল ধরনের লিভার রোগেও জন্ডিস হতে পারে। ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায়ও অনেক সময় জন্ডিস হয়। তা ছাড়া থ্যালাসিমিয়া ও হিমোগ্লোবিন ই-ডিজিজের মত যে সমস্ত রোগে রক্ত ভেঙ্গে যায় কিংবা পিত্তনালীর পাথর বা টিউমার এবং লিভার বা অন্য কোথাও ক্যান্সার হলেও জন্ডিস হতে পারে। তাই জন্ডিস মানেই লিভারের রোগ এমনটি ভাবা ঠিক নয়। শিশুদের ক্ষেত্রে পিত্তনালী চিকন থাকা বা তৈরী না হওয়া (Biliary Atresia) ও জন্ম থেকেই বিলিরুবিনের তৈরী ও নি:সরণে সমস্যা থাকলে জন্ডিস হতে পারে।
১. লিভার প্রদাহ: লিভার প্রদাহে বিলিরুবিনের উৎপাদন বেড়ে যায়। ফলশ্রুতিতে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে জন্ডিস সৃষ্টি হয়।
২. পিত্তনালীর প্রদাহ:
পিত্তনালীর প্রদাহে বিলিরুবিন শোষণ ব্যাহত হয়। ফলে বিলিরুবিন বৃদ্ধি পেতে থাকে। ৩. পিত্তনালীর ব্লকঃ
পিত্তনালীতে ব্লক হলে লিভার বিলিরুবিন সরাতে ব্যর্থ হয়। বেয়ে যায় জন্ডিসের সম্ভাবনা।
৪. গিলবার্ট’স সিন্ড্রোম:
এই অবস্থায় এনজাইমের কার্যক্ষমতা কমে যায়। এর ফলে পিত্তের রেচনতন্ত্রে সমস্যা হয় এবং বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায়।
৫. ডুবিন-জনসন সিন্ড্রোম:
এই বংশগত রোগে লিভার থেকে বিলিরুবিন শোষণ হতে বাঁধা দেয়। ফলশ্রুতিতে জন্ডিস হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
♦ কখন ডাক্তার শরণাপন্ন হওয়া উচিত?
শিশু বা বড়দের শরীরের ত্বক, চোখ ইত্যাদি হলুদ হয়ে গেলে সাথে সাথে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
♦ জন্ডিস হলে
যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হয়ঃ
রক্ত পরীক্ষা।যকৃতের কার্যকারিতা এবং কোলেস্টরল পরীক্ষা।প্রোথোম্বিন টাইম।পেটের আল্ট্রাসাউন্ড।প্রস্রাব পরীক্ষা।যকৃতের বায়োপসি।
♦ জন্ডিসের প্রতিরোধ ব্যবস্থাঃ
জন্ডিস যেহেতু কোনো রোগ নয়, তাই এর তেমন কোনো ওষুধও নেই। স্বাভাবিকভাবেও ৭ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে শরীরের রক্তে বিলিরুবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক হয়ে গেলে জন্ডিস এমনিতেই সেরে যায়। সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা, জীবাণুমুক্ত খাবার ও পানীয় গ্রহণের মাধ্যমে জন্ডিসের আক্রমণ থেকে বাঁচা সম্ভব। রাস্তাঘাটে খোলা পানি,
নোংরা ফলের জুস, শরবত ইত্যাদি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। জন্ডিস হলে রোগীকে পুরোপুরিভাবে বিশ্রামে থাকতে হবে।
এছাড়া রোগীকে প্রচুর পরিমানে শর্করাজাতীয় এবং ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার খেতে হবে। গ্লুকোজ, আখের রস, আনারস ইত্যাদি জন্ডিস রোগীর জন্য অনেক উপকারী খাবার। এছাড়া জন্ডিসের কারণ যকৃতের কার্যকারিতার সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত।
তাই যকৃতের কার্যকারিতা যেন ভালো থাকে সেদিকে লক্ষ্য সর্বদা লক্ষ্য রাখতে হবে।
জন্ডিস প্রতিরোধে সে সম্পর্ক জেনে নেওয়া দরকার।
১. হেপাটাইটিস-এ ও ই খাদ্য ও পানির মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। আর বি, সি এবং ডি দূষিত রক্ত, সিরিঞ্জ এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ায়। তাই সব সময় বিশুদ্ধ খাদ্য ও পানি খেতে হবে। শরীরে রক্ত নেয়ার দরকার হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং করে নিতে হবে। ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ ব্যবহার করাটাও খুবই জরুরী।
২. মদ্য পান থেকে বিরত থাকুন।
৩. কল কারখানার রাসায়নিক পদার্থ থেকে দূরে থাকুন।
৪. নেশাদ্রব্য গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন।
৫. ব্যবহারকৃত ইনজেকশন কিংবা নাক-কান ফোঁড়ানোর সুই ব্যবহার করবেন না। যারা সেলুনে সেভ করেন, তাঁদের খেয়াল রাখতে হবে যেন আগে ব্যবহার করা ব্লেড বা ক্ষুর আবারো ব্যবহার করা না হয়।
৬. নিরাপদ যৌনমিলন করুন।
৭. হেপাটাইটিস এ এবং বি হওয়ার আশংকা মুক্ত থাকতে হেপাটাইটিস এ এবং বি এর ভ্যাকসিন গ্রহণ করুন। ৮.অতিরিক্ত চর্বি যুক্ত খাবার বাদ দিয়ে সুষম খাবার খেতে হবে।
মানুষের মাঝে জন্ডিস বিষয়ে অনেক ভ্রান্ত ধারনা রয়েছে। তাই অযথা ভ্রান্ত চিকিৎসার স্বরনাপণ্য না হয়ে হোমিও চিকিৎসা নিন।
চিকিৎসাঃ
Homeopathic
Medicines for Jaundice
Top grade
Homeopathic medicines for jaundice include Chelidonium, Phosphorus, Myrica, and
Chionanthus. Chelidonium is an effective Homeopathic medicine for jaundice with
constant pain under the inferior angle of the right scapula. Phosphorus works
well for jaundice, fatty degenerations and acute hepatitis. A very weak, empty,
gone sensation in the entire abdominal cavity is also attended well with
Phosphorus. In case of complete jaundice, with bronze-yellow skin and loss of
appetite, Myrica is one of the best Homeopathic medicines for jaundice to
prescribe. Chionanthus has also shown remarkable results in jaundice and other
hepatic derangements. The person complains of gripping pain in the umbilical
region, along with clay coloured stool and dark urine in such cases.
Lupulus –
Effective among Homeopathic medicines for jaundice in newborns or neonatal
jaundice
Lupulus is
one of the most effective Homeopathic medicines for jaundice in newborns, also
known as neonatal jaundice. Lupulus is also a tested Homeopathic medicine for
infantile jaundice. The symptoms to look out for are yellow pigmentation of the
skin and a slow pulse.
Chelone and
Chelidonium – Top Homeopathic medicines for jaundice with pain in liver
The most
prescribed Homeopathic medicines for jaundice where it is accompanied by pain
in the liver are Chelone and Chelidonium. Homeopathic medicine Chelidonium is
recommended where the symptoms include yellow pigmented skin, especially for
constant pain under the inferior angle of the right scapula. The white of the
eye (sclera) appears dirty yellow. Other symptoms include a yellow tongue,
imprints of teeth and a bitter taste in the mouth. Chelone is one of the most
effective Homeopathic medicines for jaundice with pain and soreness in the
liver. The pain extending downwards from the left lobe of the liver is also
treated well with Homeopathic medicine Chelone.
Leptandra and
Nux Vomica – Best Homeopathic medicines for jaundice with diarrhoea
Natural and
safe, Leptandra and Nux Vomica are two well recognised Homeopathic medicines
for jaundice with diarrhoea. Leptandra is prescribed in jaundice cases with
profuse clay coloured, fetid stool. The person experiences severe pain at the
umbilicus. Symptoms that merit prescription of Nux Vomica as the best suited
among Homeopathic medicines for jaundice with diarrhoea are pale or yellowish
coloured skin, a yellow tongue, incomplete and unsatisfactory stools.
Phosphorus
and China – Top rated Homeopathic medicines for jaundice with great weakness
Top rated
Homeopathic medicines for jaundice with great weakness are Phosphorus and
China. China is one of the most prescribed among Homeopathic medicines for
jaundice with great weakness and exhaustion. Liver weakness due to alcohol or
poor diet is also treated well with China. Phosphorus works best for jaundice
with great weakness and a pale, sickly complexion. The person feels especially
weak after passing stool.
হোমিওপ্যাথ কনসালটেন্ট
ডাঃ এম এইচ মোহন
লেকচারার,চাঁদপুর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
মোবাইলঃ 01720-382646