Sunday, July 29, 2018

হেপাটাইটিস বি কী ? এটা কিভাবে ছড়ায় , এই ভাইরাসে করনীয় কী ?



“হেপাটাইটিস বি কি?
হেপাটাইটিস বি মূলত একটি ভাইরাস জনিত রোগ। তাই এ রোগটিকে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস বলা হয়ে থাকে। “হেপাটাইটিস এর “হেপা মানে লিভার আর “টাইটিস দ্বারা প্রদাহকে বোঝায়। অর্থাৎ হেপাটাইটিস বলতে লিভারের প্রদাহকে বোঝানো হয়।আর বি হচ্ছে একটি জীবাণু বা ভাইরাস । লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যান্সার, কিডনী বিকলসহ নানা রোগের অন্যতম কারন হলো হেপাটাইটিস বি ভাইরাস। যাতে প্রতিবছর মারা যাচ্ছে প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ মানুষ। তাই এই বিপর্যয় ঠেকাতে হেপাটাইটিস বি এর লক্ষণ সনাক্ত হলেই দেরী না করে হেপাটাইটিস বি হলে করনীয় সমূহ দ্রুত গ্রহণ করা উচিত ।
হেপাটাইটিস বি এর লক্ষণ -
হেপাটাইটিস বি এর লক্ষণ সমূহ কি কি?
সাধারনত শরীরে হেপাটাইটিস ভাইরাস সংক্রমণ হলে কমপক্ষে দুই থেকে তিন মাস পরে হেপাটাইটিস বি এর লক্ষণ সমূহ নজরে আসতে শুরু করে । হেপাটাইটিস বি এর লক্ষণ সমূহের মধ্যে নিম্নোক্ত লক্ষন সমূহ অন্যতম:
    খাবারে অরুচিভাব
    সর্বদা বমি-বমি ভাব লেগেই থাকে
    মাংসপেশিতে ব্যাথা অনুভূত হয়
    হাড়ের সংযোগসমূহে ও ব্যাথা অনুভূত হয়
    পেট ভরা অনুভত হয়, জ্বর জ্বর লাগে, মাথা ব্যথা থাকে
    শরীর চুলকায়
    প্রস্রাবের  রং খুব হলুদ দেখায়, চোখের রং টা ও হলুদ হয়ে যায় (জন্ডিস এ ও এমন হয়)
    ত্বকের উজ্জলতা ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়
    শরীর দুর্বল হয়ে যায় ও শরীরে অবসাদ ভর করে
এই লক্ষণসমূহ দেখতে পেলেই ধরে নেয়া যেতে পারে যে এগুলো হেপাটাইটিস বি এর লক্ষণ । তাই অতিসত্বর হেপাটাইটিস বি হলে করনীয় বিষয়গুলির প্রতি মনোযোগ দিন ।

 হেপাটাইটিস বি কিভাবে আমাদের দেহে ছড়ায় ?
 হেপাটাইটিস বি ছড়ানোর মাধ্যম খুব বেশি না। মৌলিক কিছু বিষয়ের উপর ভিত্তি করে এ রোগের সূচনা হয়। যেমনঃ

    সংক্রমিত রোগীর শরীরে ব্যবহৃত সুঁই দ্বারা রক্ত আদান প্রদান করলে
    আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, সুস্থ ব্যক্তি গ্রহন করলে
    আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক করলে
    সংক্রমিত ব্লেডের মাধ্যমে দাড়ি সেইভ করলে
    আক্রান্ত মায়ের গর্ভে সন্তান জন্ম গ্রহন করলে
    আক্রান্ত ব্যক্তির মুখের লালা, সুস্থ শরিরে প্রবেশ করলে।

যেভাবে হেপাটাইটিস বি ছড়ায় না
* রোগীর সাথে এক ঘরে বসবাস করলে
* এক বিছানায় ঘুমলে
* আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে কোলাকুলি করলে
* হ্যান্ডসেক করলে
* আক্রান্ত ব্যক্তির পোশাক পরিধান করলে।

হেপাটাইটিস বি হলে করনীয়
    হেপাটাইটিস বি এর লক্ষণ সমূহ গোচরীভূত হলে প্রথমেই একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার এর শরণাপন্ন হতে হবে
    পরীক্ষা করে রোগের মাত্রা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে
    তারপর ডাক্তার এর পরামর্শ মোতাবেক পথ্য গ্রহণ করতে হবে
    পাশাপাশি প্রচুর বিশ্রাম নিতে হবে
    ধুমপান, মদ্যপান কোনক্রমেই করা যাবে না
    সালাদ, কাঁচা ফলমূল ও সবজি বেশি বেশি খেতে হবে
    লবন পরিহার করতে হবে
    সর্বপ্রকার মাংশ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে (সম্পূর্ণ সুস্থ্য না হওয়া পর্যন্ত)
    বেশি বেশি পানি পান করতে হবে
    রসূন, আদা, পেঁপে, তুলশী, হলুদ, পুদিনা, নীম এবং কালোমেঘ বেশি বেশি সেবন করতে হবে
    একেবারেই নড়াচড়া করা যাবে না



হেপাটাইটিস বি হলে করনীয় সমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন হচ্ছে সম্পূর্ন বিশ্রামে থাকা, বেশি বেশি ঘুমানো, আর কোনরূপ নড়াচড়া না করা; তাহলেই দ্রুত আরোগ্য লাভ সম্ভব।

হেপাটাইটিস বি এর চিকিৎসাঃ-
এক জন ভাল হোমিও চিকিৎসকের পরার্মশ নিন।

পেয়ারার পুষ্টিগুন ও উপকারীতা


ডাঃ এম এইচ মোহন

ফল হিসেবে পেয়ারার জুড়ি নেই। পেয়ারা তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য ফল। পেয়ারার গুন সম্পর্কে কমবেশি আমরা সবাই জানি। তাই রোজ একটা করে পেয়ারা খাওয়া শরীরের জন্য খুবই উপকারী। আসুন জেনে নিই পেয়ারার গুণাগুন সম্পর্কে-
১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় – এটি একটি ভিটামিন ‘সি’সমৃদ্ধ ফল। একটি কমলা লেবুর চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’রয়েছে পেয়ারায়। দৈনিক দুটি মাঝারি আকারের পেয়ারা খেলে প্রতিদিনের ভিটামিন ‘সি’ ও ভিটামিন ‘এ’ এর চাহিদা পূরণ হয় যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় এবং সাধারণ সংক্রমণজনিত রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
২. ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় – পেয়ারায় ভিটামিন ‘সি’ সহ লাইকোপেন, নিয়াসিন এবং বিভিন্ন পলিফেনলস রয়েছে। এই উপাদানগুলো এন্টি অক্সিডেন্টস হিসেবে কাজ করে। যা ব্রেস্ট, প্রস্টেট, কোলন, স্কিন ও ফুসফুসের ক্যান্সারসহ টিউমার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
৩. ডায়াবেটিস প্রতিরোধে পেয়ারা- চীনের এক গবেষনায় দেখা গেছে, পেয়ারার জুস ডায়াবেটিস রোগীর সুগারের মাত্রা অনেকখানি কমিয়ে দেয়। পেয়ারায় উচ্চ মাত্রায় তন্তু ও গ্লাইসেমিক জাতীয় উপাদান থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি খুবই উপকারি।
৪. তারুণ্য ধরে রাখতে – পেয়ারায় এন্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান থাকায় ত্বকে বয়সের ছাপ বোঝা যায় না। চিরসবুজ থাকতে সবুজ এই ফলের গুণ অবর্ণনীয়।
৫. হৃদরোগ ও উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে- এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, পেয়ারা শরীরের সোডিয়াম ও পটাসিয়ামের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রন করে। ফলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে থাকে। পেয়ারা হৃদরোগ প্রতিরোধ ও কোলেস্টরল কমাতে সাহায্য করে।
৬. রাতকানা রোগ থেকে বাঁচায়-পেয়ারাতে ভিটামিন ‘এ’ রয়েছে। ফলে রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
৭. গর্ভবতী না রীদের জন্য – পেয়ারাতে ফলিক এসিড, ভিটামিন-বি৯ রয়েছে। এই উপাদানগুলো শিশুর স্নায়বিক সমস্যা প্রতিরোধে এবং সুস্থভাবে বাড়ার জন্য খুবই উপকারী। তাই গর্ভকালীন সময়ে পেয়ারা খাওয়া খুবই উপকারি।
৮. ক্লান্তি দূর করতে – পেয়ারায় ম্যাগনেসিয়াম আছে,যা শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি দেয়। পেয়ারা খেলে প্রতিদিনের ক্লান্তি অনেকাংশে দূর হয়।
৯. মস্তিষ্কের জন্য উপকারি – পেয়ারাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি৩, ভিটামিন বি৬ রয়েছে। যা আমাদের মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

নারীর বন্ধ্যাত্বের কিছু কারন ?




বিবাহিত দম্পতিদের সন্তান না হওয়ার বিড়ম্বনা সব সমাজেই বিদ্যমান। স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবনে সন্তান না এলে তাকে বন্ধ্যাত্ব হিসেবে দেখা হয়। নারীর গর্ভসঞ্চার সত্ত্বেও জীবিত সন্তান প্রসব না হওয়াকেও এক প্রকার বন্ধ্যাত্ব বলা হয়। চলনু জেনে নিই যেসব কারণে নারীরা বন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছেন।

১. অনিয়মিত ঋতুস্রাবের কারণে বন্ধ্যাত্ব দেখা দিতে পারে। সাধারণত একজন নারীর জীবনে ঋতুচক্র শুরু হওয়ার পর থেকে ২১ দিন থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে যেটি হয় সেটি নিয়মিত ঋতুস্রাব। আর যদি ২১ দিনের আগে বা ৩৫ দিনের পরে হয় তবে সেটিকে অনিয়মিত ঋতুস্রাব বলে। এর আরও প্রধান কিছু সমস্যা যেমন: ঋতুস্রাবের সময় ব্যথা, যৌন মিলনে ব্যথা, তলপেটে ব্যথা ইত্যাদি।

২. জরায়ু মুখের অসুখ, জরায়ুর অসুখ, জন্মগতভাবে জরায়ু না থাকা বা ছোট জরায়ু, এক বা দুই শৃঙ্গযুক্ত জরায়ু, দুই ভাগে বিভক্ত জরায়ু, জরায়ুতে জীবাণুর সংক্রমণ (টিবি, গনোরিয়া), জরায়ুতে টিউমার প্রভৃতি কারণেও একজন নারী বন্ধ্যা হতে পারেন।

৩. নারীদের বন্ধ্যাত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ অ্যান্ডোমেট্রিওসিস, যা সাধারণত ৩০-৩৫ বছর বয়সী মহিলাদের মধ্যেই বেশি দেখা দেয়। বিলম্বে বিবাহ ও সন্তান নিতে বিলম্ব করা এর একটি প্রধান কারণ।

৪. ডিম্বনালীর অসুখের কারণেও বন্ধ্যাত্ব হতে পারে। ডিম্বনালীর প্রধান কাজ ডিম্বাণু ও শুক্রকিটের মিলনের স্থান ঠিক করা এবং ভ্রুণের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় হরমোনের সৃষ্টি করা। এই ডিম্বনালী যখন জীবাণুর দ্বারা সংক্রমিত হয় তখন এর শ্লেষ্মাঝিল্লির ক্ষতি হয়।

৫. আমাদের দেশে টিবি, গনোরিয়া, স্ট্যাফাইলোকক্কাস, স্ট্রেপ্টোকক্কাস, বিকোলাই প্রভৃতি জীবাণুর সংক্রমণ ডিম্বনালীতে বেশি হয়ে থাকে। শল্যচিকিৎসার কারণেও ডিম্বনালী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যেমন: ডি অ্যান্ড সি, অ্যান্ডোমেট্রিয়াল বাইয়পসি বা অ্যাপেন্ডিক্সের অপারেশনের ফলেও ডিম্বনালীর অসুখ হতে পারে।

৬. হরমোনের অভাবেও বন্ধ্যাত্ব দেখা দেয়। মহিলাদের ঋতুচক্র এবং ডিম্বাণু নির্গত হওয়া নানা অন্তঃস্রাবি গ্রন্থির হরমোনের ওপর নির্ভরশীল। এর যেকোনো হরমোনের অভাবে বন্ধ্যাত্ব দেখা দিতে পারে। যেমন: হাইপোথেলামসের আঘাত, টিউমার, পিটুইটারি গ্রন্থির টিউমার, অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির টিউমার, থাইরয়েড গ্রন্থির অসুখ, ডিম্বাশয়ের অসুখ-টিউমার, সিস্ট ইত্যাদি কারণে হরমোনের গোলমাল দেখা দিয়ে থাকে।

৭. নারীর শরীরজাত অ্যান্টিবডি অনেক সময় পুরুষের শুক্রকিট ধ্বংস করে দেয় বা শুক্রকিটের জরায়ুর মুখে প্রবেশে বাধার সৃষ্টি করে। এই অ্যান্টিবডি পুরুষের রক্ত বা বীর্যে এবং মেয়েদের রক্ত বা জরায়ুমুখের শ্লেষ্মাঝিল্লিতে পাওয়া যায়।

৮. বন্ধ্যাত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে, মানসিক চাপ। অত্যধিক মানসিক চাপ নারীকে বন্ধ্যা করে দিচ্ছে বলে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা মত দিয়েছেন। এমনকি সন্তান লাভের অদম্য বাসনাও সন্তান ধারণে বাধার সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য সন্তান লাভে ইচ্ছুক দম্পতিদের সম্পূর্ণ স্বাভাবিক মানসিক ও শারীরিক অবস্থাতেই চেষ্টা করা উচিত। তাই কোনো ভয়, আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তা না করে সৃষ্টিকর্তার কাছে সন্তান লাভের চেষ্টা করলে তারা সফল হতে পারবেন।

৯. পুষ্টির অভাব বা অতিরিক্ত মেদবহুল, বা তলপেটে চর্বি জমার কারণেও নারী বন্ধ্যা হতে পারেন। তাই স্বাস্থ্য সচেতন ও খাবার গ্রহণের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। সমস্যা থাকলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে