ভিটামিন “ই” জাতীয়
খাদ্য গ্রহনের সুবিধা কী ?
শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি ভিটামিন হলো ভিটামিন-ই। এটি শারীরিক বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ও সুস্থ থাকতে ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন-ই গ্রহণ করলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, চোখের ছানি, মাংসপেশির ব্যথা, ঠাণ্ডা লাগা ও আন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি কমে যায়। অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন-ই গ্রহণে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়। শুধু শারীরিক সুস্থতায় নয়, বরং ত্বক এবং চুলের জন্যও উপকারী এই ভিটামিন। এর অভাবে চুল পড়ে যাওয়া, পেশি দুর্বল হওয়া, ভারসাম্যহীনতা, চোখে ঝাপসা দেখাসহ প্রভৃতি নানা সমস্যা দেখা দেয়। তাই এসব সমস্যা থেকে রেহাই পেতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন ‘ই’ সমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি।
ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ কিছু খাবার
বাদাম, খাদ্যশস্য, ভুট্টার ভ্রুণ এবং গাঢ় সবুজ শাকসবজি ভিটামিন-ই এর চমৎকার উৎস। এছাড়া লাল মরিচের গুঁড়া, সূর্যমুখীর বীজ, কচুর মূল, জলপাই প্রভৃতি খাবারেও পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন-ই রয়েছে।
লাল মরিচের গুঁড়া: ঝালের কারণে আমরা অনেকেই মরিচ কম খেয়ে থাকি। অবাক হলেও কথা সত্য। ভিটামিন ‘ই’ সমৃদ্ধ খাবারের তালিকায় দ্বিতীয় স্থান দখল করে আছে লাল মরিচের গুঁড়া। প্রতি ১০০ গ্রাম লাল মরিচের গুঁড়ায় রয়েছে ২৯.৮৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই।
শুকনো এপ্রিকট: খাদ্যআঁশ ও নানা ভিটামিনের উৎকৃষ্ট উৎস বলা হয় এপ্রিকটকে। প্রতি ১০০ গ্রাম শুকনো এপ্রিকটে রয়েছে ৪.৩৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘ই’।ভেষজ: ভেষজের মধ্য বেসিল ও অরিগানোতে রয়েছে সর্বোচ্চ ভিটামিন ‘ই’। প্রতি ১০০ গ্রাম বেসিল ও অরিগানোতে রয়েছে ৭.৪৮ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘ই’। পাস্তা, পিজা, সালাদ ও স্যান্ডউইচ তৈরির উপকরণ হিসেবে বেসিল এবং অরিগানো ব্যবহার করা হয়।
কাঠ বাদাম: ভিটামিন ‘ই’ এর উৎস হিসেবে কাঠবাদাম বেশি জনপ্রিয়। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঠবাদামে রয়েছে ২৬.২২ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘ই’। দাম বেশি বলে কাঠবাদাম খাবার হিসেবে খুব বেশি প্রচলিত নয়। সাধারণত ক্ষীর, পায়েস, মিষ্টি, সন্দেশ, হালুয়াসহ অন্যান্য খাবার তৈরিতে অনুষঙ্গিক উপকরণ হিসেবে কাঠবাদাম ব্যবহার করা হয়।
সূর্যমুখীর বীজ: বেশি পরিমাণে ভিটামিন ‘ই’ পাওয়া যায় সূর্যমুখীর বীজে। প্রতি ১০০ গ্রাম সূর্যমুখীর বীজে রয়েছে ৩৬.৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘ই’। সূর্যমুখীর বীজ থেকে তৈরি তেল সালাদ, স্যুপ বা গার্নিশে ব্যবহার করা হয়। এতে কোনো কোলেস্টেরল না থাকায় রান্নাতেও ব্যবহার করা যায়। যে কারণে রক্তচাপ ও হৃদরোগীরা অনায়াসে তা খেতে পারেন।
পেস্তা বাদাম: কাঠবাদামের পরেই রয়েছে পাইন নাট বা পেস্তা বাদামের স্থান। প্রতি ১০০ গ্রাম পেস্তা বাদামে রয়েছে ৯.৩৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘ই’। কাঠবাদামের মতোই পেস্তা বাদামও আমাদের দেশে বিভিন্ন খাবার তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
কচুর মূল: আয়রন ও ক্যালসিয়ামের সর্বোৎকৃষ্ট উৎস হলো কচুর মূল। এটি আমাদের দেশে অতি সহজলভ্য একটি খাবার। আলুর বিকল্প হিসেবেও কচুর মূল খাওয়া যায়। সর্বোচ্চ ভিটামিন ‘ই’ সমৃদ্ধ খাদ্য তালিকার দশ নম্বরে রয়েছে কচুর মূল। প্রতি ১০০ গ্রাম কচুর মূলে রয়েছে ২.৯৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘ই’।
পালং শাক: রান্না করা পালং শাক আয়রন, ক্যালসিয়াম ও খনিজ পদার্থের আধার হিসেবে পরিগণিত হয়। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ‘ই’। প্রতি ১০০ গ্রাম রান্না করা পালং শাকে রয়েছে ৩.৫৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘ই’।
জলপাইয়ের আচার: ভিটামিন ‘ই’ এর একটি উৎকৃষ্ট উৎস হিসেবে গণ্য করা হয় কাঁচা জলপাইকে। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা জলপাইয়ের আচারে রয়েছে ৩.৮১ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই।
ভিটামিন-ই গ্রহণের সুবিধা
কোষকে সুরক্ষা দেয়
ভিটামিন ই- তে এমন এক ধরণের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা কোষ নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচতে সাহায্য করে। সাধারণত দূষণ এবং ধূমপান থেকে শরীরে যে ক্ষতিকারক মুক্তমৌল তৈরি হয় তার বিরুদ্ধে এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যুদ্ধ করে। এতে আমরা সুস্থ থাকতে পারি।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন-ই’ সমৃদ্ধ বিভিন্ন খাবার শরীরে ‘ইমিউন সেল’ বা রোগ প্রতিরোধকারী কোষ তৈরিতে সহায়ক। এর ফলে সহজেই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
ক্ষত সারাতে সাহায্য করে
বাজারে ভিটামিন-ই যুক্ত তেল পাওয়া যায়। ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর নানা উপকারিতা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হল কাটাছেড়ার ক্ষত ও ব্রণ সারানো।
বয়সের ছাপ দূর করে
কোষ পুণর্গঠন প্রক্রিয়ার জন্য ভিটামিন-ই উপকারী হওয়ায় এটি ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সক্ষম।
অকালে পাকা চুল রোধ
চুলের সুস্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন-ই একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। চুপ পড়া, অল্প বয়সে চুল সাদা বা ধুসর হওয়া থেকে বাঁচতে চাই ভিটামিন-ই।
ডাঃ
এম এইচ মেহান
লেকচারার,
চাঁদপুর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
No comments:
Post a Comment