২৭/৭/২০২১
খোলা চিঠি,
ডাঃ এম এইচ মোহন
মানবতা আজ কোথায় ?
ভাই একটা অক্সিজেন নিয়ে আসেন না , যেখান থেকে পারেন আনেন না ভাই ………………
একটি রোগীর স্বজনদের আত্মচিৎকার নিজের চোখে না দেখলে হয়তো বিশ্বাস হতো না,
এই তো ঈদের একসাপ্তহ আগে একদিন মালরা মজুমদার বাড়ির দলিল
লেখক হেলাল মজুমদারের সাথে নিজমেহার,পালবাড়িতে যাই হেলালের কাজে, সেখানে গিয়ে পরিচয়
হয় খোকন পাল নামে একজন ব্যাক্তির সাথে ,কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে শ্বাসকষ্টের জন্য। কথা বলতে
পারছেন না। বলে আমার বয়সের সবাই কাজ-কর্ম
করে আমি এতো অসুস্থ্য কিছুই করতে পারিনা আমার ৪ চার মেয়ে ছেলে নাই । হেলাল আমার পরিচয়
দিয়ে বলে খোকন ভাই এই হল ডাঃ এম এইচ মোহন, প্রভাষক চাঁদপুরহোমিও প্যাথিক মেডিকেল কলেজ
ও হাসপতাল, এটাশুনে উনি আমার সাথে কথা বলেতে খুব আগ্রহ করে পরে আমি ওনার সব কথা শুনে
বলাম আপনার এখন অক্সিজেনের প্রয়োজন, একথা শুনে ওনার বড় মেয়ে স্মৃতি এসে বলে ভাই আপনি
একটি অক্সিজেনের ব্যবস্থা করে দেন আমার বাবার জন্য কিনবো। এর দুই দিন পর আমি স্মৃতিকে
কল দিয়ে একটি অক্সিজেনের ব্যবস্থা করে দেই, এর সাথে অক্সিমিটার এবং ব্যবহার বিধি দেখিয়ে
দেই। অক্সিজেন পেয়ে যেন আকাশের চাঁদ পাওয়ার হাঁসি দিল । বাবা মেয়ে সবাই খুশি । অক্সিজেন
দেওয়ার পর ভাল লাগতে শুরু করল । কয়েক দিন পর
হঠাৎ স্মৃতির ফোন ভাই বাবার অক্সিজেন সিলিন্ডার শেষের পথে এখন কি করবো, বাবাকে তো একমিনিটও
অক্সিজেন ছাড়া রাখা যায় না । আমি বললাম আরেকটা অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতে পারিকি না,
দেখি এর পর না হয় এটা ভরে আনতে কুমিল্লায় পাঠাবো, আসতে একদিন সময় লাগতে পারে । এর পরে
যোগাযোগ করতে করতে একটা অক্সিজেন সিলিন্ডার
পেলাম সজাগ ফাউন্ডেশনের কাছ থেকে । যাক একটু স্বস্তি পেলাম । কিন্তু রাত যখন ১টা বাজে
স্মৃতির এটি মেসেজ পাই হুবাহুব তুলে ধরলাম
Kalke amader jemnei hok oxygen lagbe ajke je ami
oxygen anci ota akhon 350 ase kmne je rhat jabe onnk tension asi babar
sashkosto tao besi je khule aktu rhakteo parteci na ki korbo bujteci na.
তখন আমি কল করলাম এত তাড়াতড়ি অক্সিজেন শেষ হল কেমন করে
,স্মৃতি ভাই অক্সিজেন এতো তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেছে আমি কিছুই বুঝি না একটা কিছু করেন
ভাই, আমার বাবাকে বাঁচান ,ভাই অক্সিজেন না হলে আমার বাবা বাঁচবে না । পরে শুনি আরেকটা
সিলিন্ডার হাট পাড়ে একটি বাড়িতে আছে । তখন রাত ১টা ৩০মিনিট তখন হেলাল ভাইকে কল দিয়ে
জানালে ভাই বলে আমি অক্সিজেন নিয়ে আসতেছি। হেলাল ভাইয়ের বাড়ি হতে হাট পাড় কাছাকছি।
এর মধ্যে স্মৃতি কল করে বলে ভাই অক্সিজেন লেভেল নেমে যাচ্ছে সিলিন্ডারের অক্সিজেন শেষের
পথে ,কিছু একটা করেন। এর ভিতর হেলাল ভাই ও দুলাল সিলিন্ডারটা নিয়ে অসল, কিন্তু দুঃখের
বিষয় হল এই সিলিন্ডারেও অক্সিজেনের মাত্রা কম ছিল। এটা দেখে আমরা চিন্তায় পড়ে গেছি,
এখন কি হবে! এই অক্সিজেন তো অল্প কিছুক্ষনের মধ্য শেষ হয়ে যাবে । কিছু না ভেবে তাড়াহুড়া
করে প্রাইভেট মেডিকেল গুলোতে খোঁজ নিলাম, কিন্তু কেউ একটু সাড়াঁ দিলো না কেউ বলে সিলিন্ডার
দেওয়া যাবেনা, কেউ বলে শেষ ,অনেক আকুতি মিনতি করে একটা সিলিন্ডারও পেলাম না, রোগীকে
যে মেডিকেলে আনবো তাও সম্ভব না অবস্থা এত খারাপ । স্মৃতি ফোনে বলে ভাই একটা অক্সিজেন
নিয়ে আসেন, যেখান থেকে পারেন আনেন না………আমার বাবা বাঁচবে না । তার কথা শুনে দু,চোঁখের
জল ধরে রাখতে পারলাম না, মন চাই চিৎকার করে বলি এই পৃথিবীর মানুষ এতো নিষ্ঠুর কেন । অক্সিজেন সিলিন্ডার মেডিকেলের ভিতরেই
পড়ে আছে , এইগুলো কার জন্য জানতে চাই ! কার
কাছে বলবো তাও যানি না । এ হলো আমাদের সমাজ ব্যবস্থা । কালিবাড়ি থেকে স্মৃতিদের বাড়িতে গিয়ে বলাম বোন কোথাও অক্সিজেন
পেলাম না , বাঁচা-মরা আল্লার হাতে, ওনাকে সরকারি মেডিকেলে নিয়ে যাবো এর ভিতরে জানতে
পারলাম উনি না ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন।ছোট
শিশু মেয়টা কান্না জড়িত কন্ঠে বলে আমার বাবাকে কোথাও নিয়ে যেতে দিবো না । আমি বলাম ক্ষমা করে দিস বোন তোর বাবাকে বাঁচাতে পারলাম না
। আজ সমাজের মানবতা বলে কিছু নেই । নিষ্ঠুর পৃথিবীর জালিম মানুষ। অক্সিজেন থাকর পরেও
পেলাম না। না হয় খোকন নামের এই মানুষটি তার মেয়েদে মাঝে আরও কিছু দিন বেঁচে থাকতে
পারতো ………………………………….

No comments:
Post a Comment