কবুল বলে বিয়ে হয়ে যায় ঠিকই, একসাথে থাকাও হয়। তবে মনের সাথে মনের মিল না থাকলে সংসার হয় না।
সংসার করতে হলে দুজনের বোঝাপড়াটা খুব ভালো হওয়া চাই।একে অপরকে ঠিক ঠাক মতো বুঝতে হয়।
তা না হলে শুধুমাএ একসাথে থাকাই হয়, সংসার হয় না। একই ছাদের নিচে একই বালিশে থেকেও দুজনের মাঝে হাজারও দূরত্ব থেকে যায়। দুজনের মনের কাছাকাছি কেউই আসতে পারে না।
একসাথে থাকা হয়, খাওয়া হয়, ঘুমানো হয় তবে কেউ কারও মনের খবর জানতে পারে না। এইভাবে আর যাই হোক একটা সংসার হয় না। 'তুমি তোমার মতো থাকো, আমি আমার মতো থাকি' এই মনোভাব নিয়ে আদেও কি একটা সংসার হয়? উওরটা আমার জানা নেই। 'আমি বিপদে-আপদে, সুখে-দুঃখে সবসময় তোমার পাশে আছি,' 'আমি তোমার পাশে থাকব'। একটা সংসার করার জন্য এই মনোভাবটা থাকা অত্যান্ত জরুরি। সংসারটা কখনো আমার হয় না। সংসারটা হতে হয় আমাদের। তাহলে সেখানে সুখের দেখা মেলে। একজনের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে যখন দুজনে মিলেমিশে একটা সিদ্ধান্ত নেয়। তখন উপর পাশের মানুষটা বুঝতে পারে এই সংসারে তার সিদ্ধান্তেরও মূল্য আছে। তখন সে সুখ অনুভব করে, শান্তি খুঁজে পায়।
আমাদের চারপাশে বেশির ভাগ সংসার টিকে আছে শুধুইমাএ সম্পর্কের দায়বদ্ধতার উপর। 'ছাড়তে পারছি না কিংবা ছেড়ে যেতে পারছি না; তাই রয়ে গেছি।' 'একসাথে থাকতে হয়, তাই থাকি।' 'খেতে হয়, তাই খাই।' 'ভালো আছি কি না, তা জানি না, তবে বেঁচে আছি।' এই প্রত্যেকটা লাইন একটা মানুষের জীবনে নিধারুন আক্ষেপের কথা বলে। এক প্রবল কষ্টের কথা বলে। কিন্তু তার উওরটা কি আমরা কখনো খুঁজতে চেষ্টা করি! কেন সংসার নামক স্বপ্নের জায়গায় সবাই সুখের দেখা পায় না?
আসলে একটা কথা জানেন কি - অর্থবিও আর ঐস্বর্যের চেয়ে দুজনের মাঝের বোঝাপড়াটাই সবচেয়ে আসল। হাজার অর্থ থাকার পরও সেই মানুষটা যদি আপনাকে ঠিক ঠাক মতো বুঝতে না পারে, তাহলে কখনোই সেই সংসারে সুখের দেখা মেলে না। আর দুজনের বোঝাপড়াটা ভালো থাকলে একে অপরকে ঠিক ঠাক মতো বুজতে পারলে ছোট্র একটা ঘড়ে ডাল-ভাতেও দিব্যি সুখ মেলে। শান্তি লাগে; তৃপ্তি আসে।

No comments:
Post a Comment