Sunday, July 29, 2018

পেয়ারার পুষ্টিগুন ও উপকারীতা


ডাঃ এম এইচ মোহন

ফল হিসেবে পেয়ারার জুড়ি নেই। পেয়ারা তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য ফল। পেয়ারার গুন সম্পর্কে কমবেশি আমরা সবাই জানি। তাই রোজ একটা করে পেয়ারা খাওয়া শরীরের জন্য খুবই উপকারী। আসুন জেনে নিই পেয়ারার গুণাগুন সম্পর্কে-
১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় – এটি একটি ভিটামিন ‘সি’সমৃদ্ধ ফল। একটি কমলা লেবুর চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’রয়েছে পেয়ারায়। দৈনিক দুটি মাঝারি আকারের পেয়ারা খেলে প্রতিদিনের ভিটামিন ‘সি’ ও ভিটামিন ‘এ’ এর চাহিদা পূরণ হয় যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় এবং সাধারণ সংক্রমণজনিত রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
২. ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় – পেয়ারায় ভিটামিন ‘সি’ সহ লাইকোপেন, নিয়াসিন এবং বিভিন্ন পলিফেনলস রয়েছে। এই উপাদানগুলো এন্টি অক্সিডেন্টস হিসেবে কাজ করে। যা ব্রেস্ট, প্রস্টেট, কোলন, স্কিন ও ফুসফুসের ক্যান্সারসহ টিউমার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
৩. ডায়াবেটিস প্রতিরোধে পেয়ারা- চীনের এক গবেষনায় দেখা গেছে, পেয়ারার জুস ডায়াবেটিস রোগীর সুগারের মাত্রা অনেকখানি কমিয়ে দেয়। পেয়ারায় উচ্চ মাত্রায় তন্তু ও গ্লাইসেমিক জাতীয় উপাদান থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি খুবই উপকারি।
৪. তারুণ্য ধরে রাখতে – পেয়ারায় এন্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান থাকায় ত্বকে বয়সের ছাপ বোঝা যায় না। চিরসবুজ থাকতে সবুজ এই ফলের গুণ অবর্ণনীয়।
৫. হৃদরোগ ও উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে- এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, পেয়ারা শরীরের সোডিয়াম ও পটাসিয়ামের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রন করে। ফলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে থাকে। পেয়ারা হৃদরোগ প্রতিরোধ ও কোলেস্টরল কমাতে সাহায্য করে।
৬. রাতকানা রোগ থেকে বাঁচায়-পেয়ারাতে ভিটামিন ‘এ’ রয়েছে। ফলে রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
৭. গর্ভবতী না রীদের জন্য – পেয়ারাতে ফলিক এসিড, ভিটামিন-বি৯ রয়েছে। এই উপাদানগুলো শিশুর স্নায়বিক সমস্যা প্রতিরোধে এবং সুস্থভাবে বাড়ার জন্য খুবই উপকারী। তাই গর্ভকালীন সময়ে পেয়ারা খাওয়া খুবই উপকারি।
৮. ক্লান্তি দূর করতে – পেয়ারায় ম্যাগনেসিয়াম আছে,যা শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি দেয়। পেয়ারা খেলে প্রতিদিনের ক্লান্তি অনেকাংশে দূর হয়।
৯. মস্তিষ্কের জন্য উপকারি – পেয়ারাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি৩, ভিটামিন বি৬ রয়েছে। যা আমাদের মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

No comments:

Post a Comment