“হেপাটাইটিস
বি” কি?
“হেপাটাইটিস
বি” মূলত একটি ভাইরাস
জনিত রোগ। তাই এ রোগটিকে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস বলা হয়ে থাকে। “হেপাটাইটিস”
এর
“হেপা”
মানে
লিভার আর “টাইটিস”
দ্বারা
প্রদাহকে বোঝায়। অর্থাৎ হেপাটাইটিস বলতে লিভারের প্রদাহকে বোঝানো হয়।আর বি হচ্ছে একটি
জীবাণু বা ভাইরাস । লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যান্সার, কিডনী বিকলসহ নানা রোগের অন্যতম
কারন হলো হেপাটাইটিস বি ভাইরাস। যাতে প্রতিবছর মারা যাচ্ছে প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ মানুষ।
তাই এই বিপর্যয় ঠেকাতে হেপাটাইটিস বি এর লক্ষণ সনাক্ত হলেই দেরী না করে হেপাটাইটিস
বি হলে করনীয় সমূহ দ্রুত গ্রহণ করা উচিত ।
হেপাটাইটিস
বি এর লক্ষণ -
হেপাটাইটিস
বি এর লক্ষণ সমূহ কি কি?
সাধারনত
শরীরে হেপাটাইটিস ভাইরাস সংক্রমণ হলে কমপক্ষে দুই থেকে তিন মাস পরে হেপাটাইটিস বি এর
লক্ষণ সমূহ নজরে আসতে শুরু করে । হেপাটাইটিস বি এর লক্ষণ সমূহের মধ্যে নিম্নোক্ত লক্ষন
সমূহ অন্যতম:
খাবারে অরুচিভাব
সর্বদা বমি-বমি ভাব লেগেই থাকে
মাংসপেশিতে ব্যাথা অনুভূত হয়
হাড়ের সংযোগসমূহে ও ব্যাথা অনুভূত হয়
পেট ভরা অনুভত হয়, জ্বর জ্বর লাগে, মাথা ব্যথা
থাকে
শরীর চুলকায়
প্রস্রাবের রং খুব হলুদ দেখায়, চোখের রং টা ও হলুদ হয়ে যায়
(জন্ডিস এ ও এমন হয়)
ত্বকের উজ্জলতা ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়
শরীর দুর্বল হয়ে যায় ও শরীরে অবসাদ ভর করে
এই
লক্ষণসমূহ দেখতে পেলেই ধরে নেয়া যেতে পারে যে এগুলো হেপাটাইটিস বি এর লক্ষণ । তাই অতিসত্বর
হেপাটাইটিস বি হলে করনীয় বিষয়গুলির প্রতি মনোযোগ দিন ।
হেপাটাইটিস বি কিভাবে আমাদের দেহে ছড়ায় ?
হেপাটাইটিস বি ছড়ানোর মাধ্যম খুব বেশি না। মৌলিক
কিছু বিষয়ের উপর ভিত্তি করে এ রোগের সূচনা হয়। যেমনঃ
সংক্রমিত রোগীর শরীরে ব্যবহৃত সুঁই দ্বারা রক্ত
আদান প্রদান করলে
আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, সুস্থ ব্যক্তি গ্রহন
করলে
আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক করলে
সংক্রমিত ব্লেডের মাধ্যমে দাড়ি সেইভ করলে
আক্রান্ত মায়ের গর্ভে সন্তান জন্ম গ্রহন করলে
আক্রান্ত ব্যক্তির মুখের লালা, সুস্থ শরিরে প্রবেশ
করলে।
যেভাবে
হেপাটাইটিস বি ছড়ায় না
*
রোগীর সাথে এক ঘরে বসবাস করলে
*
এক বিছানায় ঘুমলে
*
আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে কোলাকুলি করলে
*
হ্যান্ডসেক করলে
*
আক্রান্ত ব্যক্তির পোশাক পরিধান করলে।
হেপাটাইটিস
বি হলে করনীয়
হেপাটাইটিস বি এর লক্ষণ সমূহ গোচরীভূত হলে প্রথমেই
একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার এর শরণাপন্ন হতে হবে
পরীক্ষা করে রোগের মাত্রা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে
হবে
তারপর ডাক্তার এর পরামর্শ মোতাবেক পথ্য গ্রহণ
করতে হবে
পাশাপাশি প্রচুর বিশ্রাম নিতে হবে
ধুমপান, মদ্যপান কোনক্রমেই করা যাবে না
সালাদ, কাঁচা ফলমূল ও সবজি বেশি বেশি খেতে হবে
লবন পরিহার করতে হবে
সর্বপ্রকার মাংশ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে (সম্পূর্ণ
সুস্থ্য না হওয়া পর্যন্ত)
বেশি বেশি পানি পান করতে হবে
রসূন, আদা, পেঁপে, তুলশী, হলুদ, পুদিনা, নীম এবং
কালোমেঘ বেশি বেশি সেবন করতে হবে
একেবারেই নড়াচড়া করা যাবে না
হেপাটাইটিস
বি হলে করনীয় সমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন হচ্ছে সম্পূর্ন বিশ্রামে থাকা, বেশি
বেশি ঘুমানো, আর কোনরূপ নড়াচড়া না করা; তাহলেই দ্রুত আরোগ্য লাভ সম্ভব।
হেপাটাইটিস
বি এর চিকিৎসাঃ-
এক
জন ভাল হোমিও চিকিৎসকের পরার্মশ নিন।


No comments:
Post a Comment