পিত্ত-থলির পাথর সৃষ্টির কারন ,লক্ষন ও হোমিও চিকিৎসা
লেকচারার, ডাঃ এম এইচ মোহন
পিত্ত-থলির
(gall bladder) অবস্থান আমাদের পেটের ডান দিকে যকৃতের
(liver) নিচে। যকৃতে পিত্তরস
(bile) তৈরি হয় এবং সূক্ষ্ণ নালির মাধ্যমে পিত্ত-থলিতে পৌঁছে। আমরা যখন খাবার খাই, পরিপাকতন্ত্র চর্বিজাতীয় খাবারের অংশ চিহ্নিত করার পর এক ধরনের হরমোন
(CCK) নিঃসরণ করে। এতে পিত্ত-থলির মাংসপেশি সংকুচিত হয় এবং সংকোচনের ফলে পিত্ত-থলিতে থাকা ঘন পিত্তরস খাদ্যনালীতে প্রবেশ করে। নালির মধ্য দিয়ে পিত্তরস ক্ষুদ্রান্ত্রে
(Small intestine) পৌঁছায় এবং সেখানে প্যানকৃয়েটিকলাইপেজ নামক এনজাইমের সহায়তায় চর্বি অংশকে ভেঙ্গে হজমে সাহায্য করে। যদি কোন কারণে সাধারণ মাত্রার থেকে বেশি চর্বি থাকে তাহলে তা নির্দিষ্ট মাত্রার এনজাইম দিয়ে সম্পূর্ণ দ্রবীভূত হয়না। ফলে এই অ-দ্রবীভূত মিশ্রণগুলো ধীরে ধীরে পাথর তৈরি করে। এগুলোকে বলা হয় কোলেস্টেরল পাথর।
পনের শতাংশ ক্ষেত্রে পাথরগুলো কোলেস্টেরলের কারণে হয়না, হয়ে থাকে ভিন্ন কারণে। সেগুলো কে বলে রঞ্জিত-পাথর
(pigment stone)। রক্তের লোহিত কণিকা (Red
blood cell) ১২০ দিন পর ভেঙে লিভারে বিলিরুবিন সৃষ্টি করে, যা পিত্তরসের মাধ্যমে দেহ থেকে নিঃসৃত হয়। শরীরে বেশি মাত্রায় বিলিরুবিন সৃষ্টিকারী কিছু অবস্থা যেমন-লিভারসিরোসিস, এছাড়া এনিমিয়া, থ্যালাসেমিয়া ইত্যাদি কারণে এই পাথর সৃষ্টি হয়। এই পাথরগুলি ছোট এবং সংখ্যায় অনেক হয়ে থাকে।
কোলেসিস্টাইটিস বা প্রদাহ হলে পেটের ডানদিকে তীব্র ব্যথা হয়, বিশেষ করে রাতের বেলায় চর্বিজাতীয় খাবার বেশি খেলে এ ব্যথা অনুভূত হতে পারে সেই সঙ্গে বমি ভাব, হালকা জ্বর ইত্যাদি লক্ষ্মণ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় পাথর পিত্ত-থলি থেকে বোরোতে গিয়ে পিত্তনালীতে আটকে যায় এবং তখন বিলিরুবিনের বিপাক ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জন্ডিসও হতে পারে।
পুরুষদের তুলনায় নারীদের পাথর হওয়ার সম্ভাবনা কেন বেশি? কারণ ইস্ট্রোজেন হরমোন পুরুষদের তুলনায় নারীদের বেশি থাকে, আর অধিক মাত্রায় ইস্ট্রোজেন হরমোনের উপস্থিতি পিত্তরসে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
পুরুষদের তুলনায় নারীদের পাথর হওয়ার সম্ভাবনা কেন বেশি? কারণ ইস্ট্রোজেন হরমোন পুরুষদের তুলনায় নারীদের বেশি থাকে, আর অধিক মাত্রায় ইস্ট্রোজেন হরমোনের উপস্থিতি পিত্তরসে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া জন্মবিরতিকরণ পিল খাওয়ার অভ্যাস, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া এই ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
অপরদিকে, ওজন দ্রুত হারে কমতে থাকলেও কিন্তু পাথরের সৃষ্টি হতে পারে। কারণ লোক্যালোরিডায়েট পিত্তরস তৈরিতে বাধা দেয় এবং কোলেস্টেরলকে খুব তাড়াতাড়ি ক্রিস্টালাইজ করতে সাহায্য করে
পিত্ত পাথরের
(gall stone) লক্ষণ
১. প্রচন্ড বেদনা ডান কুক্ষিদেশ হতে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রচন্ড বেদনায় রোগী ছটফট করে এবং অস্থির হয়ে পড়ে।
২. অনেক সময় বেদনার সঙ্গে বমি, পিত্ত বমি হয়ে থাকে।
৩. বেদনার সঙ্গে ঠান্ডা ঘাম দেখা দেয়। নাড়ী দুর্বল হয়, ছটফট ভাব এবং হিমাঙ্গ ভাব দেখা দেয়, শ্বাস প্রশ্বাসে কষ্ট হয়।
৪. অনেক ক্ষেত্রে রোগীর জন্ডিস রোগ হয় এবং দেহ হলুদ বর্ণ হয়ে যায়।
৫.অনেক সময় ২/৩ দিন পর্যন্ত বেদনা থাকে তারপর বেদনার নিবৃত হয়। যখন বেদনার নিবৃত হয় তখন বুঝতে হবে যে পাথর পুনরায় পিত্ত কোষে ফিরে গেছে অথবা পিত্ত নালী দিয়ে ক্ষুদ্রান্তের ডিউডেনামে চলে আসছে। ডিউডেনামে চলে আসলে অনেক সময় মলের সঙ্গে বেরিয়ে যায় আবার মলের সঙ্গে বের না হয়ে ভিতরে থেকে যায় এমন কিছু ক্ষেত্রে অপারেশনেরও প্রয়োজন হতে পারে।
৬.পাথর যখন পিত্ত কোষের দ্বার দিয়ে বের হতে থাকে তখন অসহ্য বেদনার সৃষ্টি হয় এবং বেদনা পেটের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
হোমিও চিকিৎসাঃ
কোলেষ্টিরিনাম ২০০ শক্তি ভাল কাজ করে । এছাড়া ক্যালকেরিয়া কার্ব্ব ৩০ শক্তি ও আর একটি কায্যকরী ঔষধ। বার্ব্বারিস- Q মাদার সকালে ও বিকালে ১৫/২০ফোঁটা করে খেলে সুফল পাবেন। যদি কোন লক্ষন না পান তাহলে কিছুদিন চায়না ৩০ শক্তি খেয়ে দেখতে পারেন।
বায়োকেমিকঃ
ক্যাকেরিয়া-ফস ১২X,
ম্যাগ- ফস ৩X,
নেট্রাম- সালফ৩X,
নেট্রাম-ফস ৬X,
সাইলিসিয়া ১২ X
একসঙ্গে সাকালে ও বিকালে সেবন করবেন।
প্রয়োজনেঃ- এক জন ভাল রেজিঃ হোমিও চিকিৎসকরে পরামর্শ নিন।।
ডাঃ এম এইচ মোহন
লেকচারার, চাঁদপুর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ।
মোবাইলঃ 01720-382646

No comments:
Post a Comment